Walton primo Rx8 mini review Bangla


২০২১ সালে আমাদের জন্য সবচেয়ে বিস্ময়কর এবং গর্বের একটি বিষয় ছিল ওয়ালটনের স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরের যুগে প্রবেশ করা।


ওয়ালটন এতদিন অনেক ভালো ভালো ফেন তৈরী করলেও এদের প্রসেসর তেম একটা ভালো ছিল না।
এতদিন এরা এদের তৈরী করা সকল ফোনেই মিডিয়াটেকের প্রসেসর ব্যবহার করত।


মিডিয়াটেক প্রসেসর খারাপ না তবে স্ন্যাপড্রাগনের মত ভালো না।
শুধু প্রসেসরেই যে চমক এনেছে তা কিন্তু নয়।
প্রসেসর ছাড়াও আরো অনেক চমক রয়েছে এতে।

আজ পর্যন্ত ওয়ালটনের তৈরী করা সবচেয়ে সেরা ফোনটি হলো Walton primo Rx8 mini।


এর ডিজাইন মুগ্ধ করেছ প্রতিটি নেটিজেনকে। ডিজাইনটি সকলের ভালো লাগতেই হবে।
সেই সাথে ক্যামেরা, ফুল এইচডি ডিসপ্লে, প্রসেসর, আর যেটি না বললেই নয় তা হচ্ছে দাম।

সবকিছুতেই রয়েছে প্রিমিয়ামের ছোয়া তাও বাজেটের মধ্যে।
আজকের এ পোস্টে ওয়ালটন primo Rx8 mini এর সকল খুটিনাটি দোষগুণ তুলে ধরব।
আশা করি পোস্টটি সজলের ভালো লাগবে।

প্রথমেই কথা বলতে চাই এর ডিসপ্লে নিয়ে।

ডিসপ্লেঃ


ওয়ালটনের এই ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে
ফুল এইচডি+ 2340 x 1080 pixels।
যেটি সত্যিই অসাধারণ।


আপনার ডিসপ্লে নিয়ে কোন কমপ্লেইন থাকবে না।
কারন এতে আপনি অনায়াসেই 4k পর্যন্ত ভিডিও স্মুথলি দেখতে পারবেন।


এই বাজেটের ফোনে ফুল এইচডি আশা করা নিশ্চয়ই বোকামি।
কিন্তু এ অসাধ্য কাজটি সাধন করে দিয়েছে ওয়ালটন।
বাজেটের মধ্যে ফুল এইচডি ডিসপ্লে প্রোভাইড করেছে আপনাদের।


এর ডিসপ্লের দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৬.৩ ইঞ্চি।
যার জন্য ওয়ালটনকে ধন্যবাদ দিতেই হবে।
আইপিএস এলসিডি টাসস্ক্রীন।

ফোনটিতে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে রয়েছে Android 10 অপারেটিং সিস্টেম।

প্রসেসরঃ


ফোনটির প্রসেসরে ভালো চমক এনেছে ওয়ালটন।
এই বাজেটের মধ্যে স্ন্যাপড্রাগণ প্রসেসর ব্যবহার করায় সত্যিই ওয়ালটনকে ধন্যবাদ।
ওয়ালটনের এ ফোনটিতে রয়েছে Qualcomm Snapdragon 660 (14 nm) চিপসেট।
Octa-core, up to 2.2 GHz এর প্রসেসর।

জিপিউ যুক্ত করা হয়েছে এড্রেনো ৫১২।
প্রসেসরে অনেক ভালো কাজ করেছে ওয়ালটন।


স্ন্যাপড্রাগণ ৬৬০ ব্যবহার করায় পাওয়ার তেমন একটা কনসিউম করবে না। ভালো ব্যাটারি ব্যাকাপ আশা করা যায়।
আর গেমপ্লে বলতে পাবলি, ফ্রী ফায়ার খেলতে পারবেন না।
পাবজিতে মোটামুটি ভালোই গ্রাফিকস পাবেন।
হিটিং ইস্যু তেমন একটা থাকবে না এই প্রসেসরে।
প্রসেসর যথেষ্ট ভালো এ ফোনের।

সেন্সরঃ

ফোনটিতে রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, Accelerometer (3D), Proximity, Gyroscope, E-Compass

ফেইস আনলকও রয়েছে।

র্যাম/রমঃ


ফোনটির এখন পর্যন্ত একটি ভেরিয়েশন প্রকাশ করেছে ওয়ালটন।
সেটি হচ্ছে 4/64 ভেরিয়েশন।

এবার কথা বলব ক্যামেরা নিয়ে।
ক্যামেরা বর্তমান যুগে ফোনের জন্য এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
র্যাম যতই ভালে থাকুক, প্রসেসর যতই ভালো থাকুক ক্যামেরা ভালো না হলে কেউ নিবে না।

ক্যামেরাঃ


ওয়ালটনের এ ফোনটির ব্যাক ক্যামেরায় রয়েছে ত্রিপল ক্যামেরার সেটাপ।
এতে 12 MP +8 MP +5 MP এর তিনটি ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে।

ক্যামেরার ফিচারঃ PDAF, LED flash, f/1.8, 1/2.86″, 120º ultrawide, depth, HDR & more

ক্যামেরার কোয়ালিটি যথেষ্ট ভালো।
ছবি উঠে হতাশ হবেন না কেউ।

সম্প্রতি এর জন্য GCAM ও রিলিস করা হয়েছে।

সেলফি ক্যামেরা হিসেবে থাকছে ১৩ মেগাপিক্সেলের দারুন একটি ক্যামেরা।

উভয় ক্যামেরাতেই ভিডিও রেকর্ড হয় ১০৮০ পিক্সেল কোয়ালিটিতে।

এখন কথা বলব এর ব্যাটারি নিয়ে।

ব্যাটারিঃ


সত্যি বলতে কি এর ব্যাটারি দেখে আমি হতাশ।
এরা কি মনে করে এত কম এম্পিয়ারের ব্যাটারি দিল আল্লাহ ভালো জানে।
এতে যুক্ত করা হয়েছে 3600 mAh এর লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি🥴।
ভাইরে ভাই ব্যটারি মিনিমাম ৪৫০০ করা উচিত ছিল।
এই যুগে এত কম ব্যাটারি সত্যিই বোকামি।

যতই ভালো থাকুক চার্জ দিনে দুবার চার্জ দিতেই হবে।
ব্যাটারি আরো ভলো করা উচিত ছিল।
যদি ভালো অপটিমাইজেশন করে থাকে তাহলে ৬-৭ ঘন্টা ব্যাকাপ পাবেন আশা করি।

চার্জার হিসেবে থাকছে ১০ ওয়াটের একটি চার্জার।
ফোনটি ১৮ ওয়াট পর্যন্ত চার্জার সাপোর্ট করে।

ফোনটি খুবই স্লিম, একদম আকর্ষণীয় লাগে।
এর ওজন হচ্ছে ১৭৮ গ্রাম মাত্র।

যাই হোক ফোনটি যথেষ্ট ভালো,মিডিয়ান ইউজারদের জন্য।
আপনি এ ফোন থেকে হেভি গেমিং পারফরমেন্স আশা করতে পারবেন না।

মোটামুটি সবকিছু মিলিয়ে এডজাস্ট করে নিতে হবে।
তবে দেশীয় ফোন এতদূর যেতে পারছে এটাই অনেক কিছু।
ফোনটি নিতে পারেন, আশা করি হতাশ হবেন না।

দামঃ

ফোন যতই ভালো হোক না কেন যদি বাজেটের মধ্যে না থাকে তাহলে কেউ নিতে পারবে না।

ওয়ালটনের এ ফোনটি মূলত মিড রেঞ্জের ক্রেতাদের লক্ষ করে তৈরী করা।

ফোনটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার টাকা।

বিকাশ / নগদে পেমেন্ট করলে পাবেন ১০% ক্যাশব্যাক।

আশা করি এ পোস্টটি ভালো লেগেছে।

ধন্যবাদ