Tecno Spark 6 vs Realme 5i Review bangla

টেকনো এবং রিয়েলমি দুই কোম্পানিই বাংলাদেশের মার্কেট গভীরভাবে ধরে রেখেছে।
এরা বাংলাদেশের মানুষের হাতে তুলে দিয়েছে কম বাজেটের মধ্যে অসাধারণ সব ফোন।

আজকে আমরা এ কোম্পানির দুটি ফোন নিয়েই কথা বলতে যাচ্ছি।

প্রথমে শুরু করব টেকনোকে দিয়ে।

টেকনো! টেকনো! টেকনো!
বাংলাদেশের মোবাইলের বাজারে এ নামটি খুবই পরিচিত।
বিশেষ করে যাদের বাজেট কম তাদের কাছে টেকনো হলো আর্শির্বাদের মত।
কারণ কম বাজেটের মধ্যে এদের কালেকশনে রয়েছে প্রিমিয়াম ডিজাইনের সেরা সেরা সব মোবাইল।


কম বাজেটের মধ্যে সব নতুন নতুন ফিচার এবং প্রিমিয়াম ডিজাইনের জন্য টেকনো খুবই পরিচিত।
বাংলাদেশের মানুষ কয়কবছর আগেও টেকনোর নামই জানত না।
অথচ বর্তমানে কম বাজেটের প্রায় সব ফোনই এদের দখলে।

আসলে টেকনো, ইনফিনিক্স, আইটেল এরা সবাই কিন্তু একই কোম্পানির ভিন্ন তিনটি ব্র্যান্ড।
আর এ তিন ব্র্যান্ডই সারাবিশ্বে কম বাজেটের ফোনের বাজার একচেটিয়াভাবে দখল করে রেখেছে।

আজকের এ পোস্টে টেকনোর সবচেয়ে লেটেস্ট মডেলের ফোনটি নিয়ে কথা বলব।
নামঃ

Tecno Spark


ফোনটি প্রথম রিলিস হয় ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ সালে।
প্রথমে কথা বলতে চাই এর প্রসেসর নিয়ে।

এতে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে রয়েছে Android 10 (HiOS 7.0)।

চিপসেটঃ


মিডিয়াটেক হেলিও G70 (12nm) ।
GPU: Mali-52

প্রসেসর অনেকটাই গেমিং প্রসেসর।
কমবেশি সব গেমই খেলা যাবে।
তবে একটু হিটিং ইস্যু লক্ষ করতে পারেন।
ওভারঅল ভালো।
মিডিয়াটেকের G সিরিজের প্রসেসরগুলো খুব ভালো পারফর্ম করছে।
অনেক কোম্পানিই এখনও মিডিয়াটেকের প্রসেসর ব্যবহার করছে।
এ প্রসেসর খুবই ফাস্ট তাই এর চাহিদা বেশি। আর অপটিমাইজেশন ভালো হওয়ার চার্জ তেমন একটা কনজিউম করে না।

প্রসেসরে খুব ভালো করেছে এরা।

র্যাম/রমঃ


এ ফোনটির অফিশিয়াল একটি ভেরিয়্যােন্ট রয়েছে।
4/128 এর ভেরিয়েন্ট।

ব্যাটারিঃ


এতে রয়েছে ৫ হাজার mAh এর লং লাস্টিং লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি।
সাথে দেওয়া হয়েছে ১৮ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার।
ব্যাটারি ব্যাকাপ অনেক ভালো পাওয়া যাবে।

ক্যামেরাঃ

ক্যামেরায় এ কোম্পানির ফোনকে পিছনে ফেলা মুশকিল।
এ ফোনটিতে রয়েছে Quad 16+2+2 Megapixel +QVGA ক্যামেরা।
ক্যামেরা যে ভালো এতে কোন সন্দেহ নেই।
পিকচার কোয়ালিটিও খুবই ভালো।

সেলফি ক্যামেরা হিসেবে আছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।

উভয় ক্যামরায় ভিডিও রেকর্ড করা যায় ১০৮০ পিক্সেলে।

ক্যামেরাকে ভালো বলা ছাড়া কোন উপায় নেই।

ডিসপ্লেঃ


এর ডিসপ্লের দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৬.৬ ইঞ্চি।

HD+ 720 x 1640 pixels (263 ppi) এর একটি আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে।

ডিসপ্লে কোয়ালিটি এভারেজ বলতে হবে। যেহেতু লো বাজেটের ফোন তাই ডিসপ্লে এত ভালো হবে না।
তারপরও এর ডিসপ্লে যথেষ্ট ভালো।
মোটামুটি ভালোই মজা পাওয়া যাবে।

এর ব্লুটুথ ভার্সন হচ্ছে ৫ মানে লেটেস্ট।
ইউএসবি হচ্ছে টাইপ সি।

সেন্সরঃ


Fingerprint, Accelerometer, প্রক্সিমিটি।

যদিও ফোনটি তেমন হাইলি পারফর্ম করার মত ফোন না।
তবে এতে মোটামুটি কাজ চালিয়ে নেওয়া যাবে।
আর বাজেটও ত চিন্তা করতে হবে।
যেহেতু বাজেট কম তাই এতকিছু আশা করাটাও নেহাত বোকামি।
বাজেট হিসেবে আমি মনে করি সব ঠিকই রয়েছে।

ফোনটি কিন্তু হেভি ইউজারদের জন্য না।
যারা তেমন কোন ভারী কাজ করেন না। তারা ফোনটি নিতে পারেন।
সাথে মোটামুটি গেমিংও করতে পারবেন।

দাম

ফোনটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১,৯৯০ টাকা।
আমার কাছে দামটা একটু বেশি মনে হলো।
১০ হাজারের আশেপাশে হলে বেস্ট হতে পারত।
যাই হোক আমাদের তো আবার ভ্যাটও দিতে হয়। তাই হয়ত এত দাম হয়েছে।

Real Me 5I:

আপনি যদি ১৩ হাজার টাকার মধ্যে স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর চান তাহলে রিয়েলমির এ ফোনটি আপনার জন্য অন্যতম বেস্ট একটি অপশন।

রিয়েলমির এ ফোনটি আসলে গেমিং ফোন। কারণ এতে মিড লেভেলের মধ্যেও ভালো মানের প্রসেসর যুক্ত করা হয়েছে।
যেটি সত্যিই অসাধারণ।
প্রসেসর ভালো হলে আর কি লাগে বলেন।
এর শুধু প্রসেসরই যে ভালো তা কিন্তু নয়, আরো অনেক গুণ আছে এর।

রিয়েলমি 5i প্রথম রিলিস করে জানুয়ারি ২০২০ সালে।

ক্যামেরাঃ


ক্যামেরার ব্যাপারে রিয়েলমিও পিছিয়ে নেই।
এ ফোনটিতে রয়েছে Quad 12+8+2+2 Megapixel এর চারটি ক্যামেরা।
ক্যামেরা ফিচারঃ
PDAF, আল্ট্রাওয়াইড, macro ক্যামেরা, depth সেন্সর

এর সেলফি ক্যামেরা হিসেবে আছে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামরা।

উভয় ক্যামরাতেই ভিডিও রেকর্ড হয় ১০৮০ পিক্সেল কোয়ালিটিতে।

ব্যাটারিঃ


এতে ব্যবহার করা হয়েছে 5,000 mAh এর লং লাস্টিং করা লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি।
ব্যাটারি ব্যাকাপ ভালে পাওয়া যাবে এতে।
এর সাথে দেওয়া হয়েছে ১০ ওয়াটের একটি ফাস্ট চার্জার। ১৮ ওয়াটরের ফাস্ট চার্জার দেওয়া উচিত ছিল।

সেন্সরঃ


এতে রয়েছে জাইরোস্কোপ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, প্রক্সিমিটি, Accelerometer।



র্যাম/রমঃ


এর দুটি ভেরিয়েন্ট রয়েছে।
৩/৩২ এবং ৪/৬৪।

ফোনটিতে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে রয়েছে Android Pie v9.0, planned upgrade to Android 10 (ColorOS 6)। মানে প্রথমে এনড্রয়েড ৯ থাকলেও আপডেট এসে ১০ হয়ে যাবে।

চিপসেটঃ


এতে রয়েছে স্ন্যাপড্রাগণ ৬৬৫ চিপসেট।
যেটি অনেক দামি একটি প্রসেসর এবং লং লাস্টিং করে। Octa core, up to 2.0 GHz প্রসেসর।

GPU: Adreno 610

ফোনটির প্রসেসর যথেষ্ট ভালে এবং আপডেট।
পাবজি, ফ্রীফায়ার যথেষ্ট ভালোভাবে খেলা যাবে।
গেমপ্লে করে মজা পাওয়া যাবে ফোনটিতে।

ডিসপ্লেঃ


এর ডিসপ্লের দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৬.৫২ ইঞ্চি।

HD+ 720 x 1640 pixels (269 ppi) এর একটি আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে।

ফোনটির ওজন হচ্ছে ১৯৫ গ্রাম।
রিয়েলমির সব ফোনই একটু মোটা দেখায়। এটাও ব্যাতিক্রম না।

দামঃ

ফোনটির দাম হচ্ছে ৳12,990 টাকা।

যাই হোক ফোনটি সকল কাজের জন্য উপযোগী।
সবকিছু স্মুথলি করতে পারবেন আশা করি কোন সমস্যা হবে না।

এখন কথা হলো কোন ফোনটি সেরা?

আমার মতে Realme 5i সেরা।
যদিও এর দাম একটু বেশি। তারপরেও কিছু বেশি টাকা দিয়ে ভালো মানের জিনিস নেওয়া উচিত।
রিয়েলমির এ ফোনটি যথেষ্ট ভালো করেছে।
এবং এর ইউজাররাও সেটিসফাইড।

আমি টেকনোকেও খারাপ বলব না।
তবে প্রসেসরের দিক থেকে রিয়েলমিকে আগিয়ে রাখতেই হবে।
কারণ প্রসেসরই সব।

এখন সিদ্ধান্ত আপনার।
আপনার যেটা ভালো মনে হবে সেটা করবেন। কারণ একেকজনের টেস্ট, রুচি একেক রকম।

আশা করিনএ পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে।
ধন্যবাদ।